NewsOpinion

বিএনপি স্রষ্ঠা জিয়া ছিলেন এক ঠান্ডা মাথার খুনী

জাহেদ আহমাদ, যুক্তরাজ্য

জিয়াউর রহমান পাঠ শেষে তাকে একজন সানগ্লাস পরিহিত অসম্ভব রকমের ঠান্ডা মাথার খুনী ছাড়া তাকে আর কিছুই মনে হয়না। হবার কথাও নয়। আমি আবারো বলছি, ‘ঠান্ডা মাথার খুনী’

এই লেখাটা লিখতে গিয়ে আমি নিজেকেই নিজে প্রশ্ন করেছি যে আমি কি জিয়া’র ব্যাপারে নির্মোহ কিছু লিখতে পারব? কিংবা জিয়ার ব্যাপারে এমন কিছু যেখানে আমাকে কোনোভাবে প্রভাবিত মনে হবে না?

নিজেকে নিজে প্রশ্ন করে, নিজের সাথে যুদ্ধ করে একটা সময় মনে হয়েছে, জিয়াউর রহমান পাঠ করবার পর, একজন অতি স্বাভাবিক থেকে শুরু করে অতিরঞ্জিত পলিটিকাল চরিত্র, সেটি যেই দলের-ই হোক না কেন একবাক্যে স্বীকার করে নেবেন যে, জিয়া ছিলো একজন অসম্ভব ঠান্ডা মাথার এক ভয়াবহ খুনী।

কিন্তু এই অনুধাবনের পার্থক্য থেকে যাবে এক যায়গাতেই। সেটি হচ্ছে, কেউ স্বীকার করবে কিংবা কেউ স্বীকার করবে না। এই স্বীকার বা অস্বীকার এসব ব্যাপারগুলো নির্ভর করে ব্যক্তির পলিটিকাল সুবিধাবাদের দর্শনে। ফলে ব্যক্তিগত লাভ ক্ষতির স্থান থেকে সত্য স্বীকার না করাটা নিয়ে আমার মাথা ব্যাথা নেই।

সেনাবাহিনী থেকে এসে যারাই এই দেশ দখল করে মসনদে বসে গেছেন সেটা মেজর জেনারেল জিয়া হোক, লেফটেনেন্ট জেনারেল হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ হোক কিংবা মেজর জেনারেল মঈন-ই হোক, এদের খুব পরিচিত টেন্ডেন্সি হচ্ছে কিছু দৃষ্টিকাড়া তথাকথিত উন্নয়ন ঘরানার কাজ হাতে নেয়া।

যেমন রাস্তা পরিষ্কার করতে লেগে যাওয়া, রাস্তায় ট্রাফিক সিগনাল ঠিক করবার জন্য গণহারে বাস চালক বা বেবি টেক্সিওয়ালাকে কিংবা রিকশাওয়ালাকে কান ধরে উঠবস করানো, বড় বড় গাছের গোড়াতে লাল-সাদা রঙ করা, রাস্তাঘাট পরিষ্কার করা ইত্যাদি।

আপনাদের মনে আছে কিনা জানিনা, এরশাদ ক্ষমতায় এসে সাইকেল দিয়ে অফিস করা শুরু করেছিলো। উদ্দেশ্য হচ্ছে জনতাকে দেখানো যে একজন দেশপ্রধান কি অসম্ভব সরল ও সহজ জীবন যাপন করেন।

কিন্তু এতবছর পর এসে যখন আমরা হিসেবে মিলাই তখন স্পস্ট দেখি এরশাদের ১০ মাইল দূরত্ব দিয়েও যিনি হেঁটে গিয়েছিলেন, সেই ব্যক্তিরও শত কোটি টাকার মত আয় হয়েছিলো। ফলে ওই সাইকেল চালিয়ে অফিসে যাওয়া যেমন ছিলো সামরিক শাষকদের একটা ভান তেমনি তাদের অন্দর মহল ছিলো টাকার বান, এই দুটোই সত্য।

মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের ভাই কামাল সাহেব এক সময় বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের প্রধান কিংবা বড় কোনো পদে ছিলেন। এই পর্যটন সম্পর্কিত কোনো একটা বিষয় নিয়ে কামাল সাহেব তার ভাই জিয়াউর রহমান সাহেবকে সুপারিশ করতে গিয়েছিলো।

তথ্য সূত্রে জানা যায়, জিয়া কামালের উপর এমন খেপেছিলো এবং অনেকের সামনে কামালকে জানিয়েছিলো, আর যদি কোনোদিন সুপারিশ নিয়ে আসে তাহলে পিটিয়ে চামড়া তুলে দিবে কামালের। বোঝেন তাহলে, আপন ভাইকে পর্যন্ত সুপারিশ করবার লাইনে আনেনি জিয়া।

আমরা বিভিন্ন ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকার, আলোচনায় এও জেনেছি জিয়ার দুই পূত্র তারেক আর কোকো’র প্যান্ট বানানো হোতো জিয়ার পুরোনো জামা দিয়ে কিংবা শার্ট বানানো হতো জিয়ার পুরোনো শার্ট ছোটো করে। ব্যক্তিগত এসব ঘটনা দিয়ে আমাদের দেশের যে চিন্তার ধারা, সেটি অনুযায়ী জিয়াকে বাহবা দেবেন অনেকেই।

আমাদের দেশে রাস্তা ঘাট বানানো, দ্রব্যমূল্য ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখা, বেড়ি-বাঁধ নির্মাণ, সেতু নির্মাণ, গাছের গোড়াতে রঙ করা, ট্রাফিক সিগনাল লাইনে রাখার জন্য এক-তাকে ধরে কানে ধরিয়ে উঠ-বস করানোকে একজন সফল রাষ্ট্র প্রধানের যথাযথ কাজ বলে বিবেচনা করা হয়।

রাষ্ট্রপ্রধান দেশের শত্রুদের ক্ষমতায় বসালো কিনা, শিক্ষানীতিতে মৌলবাদী পড়ালেখা ঢুকিয়ে দেয়া হোলো কিনা, হাজার-হাজার কোটি টাকা পাচার হোলো কিনা, নিরীহ সিপাহি, জনতা, নেতাকে নিজের মনের মতন ট্রাইবুনাল বানিয়ে ফাঁসি দেয়া হোলো কিনা এসব নিয়ে আম-জনতার তেমন প্রতিক্রিয়া থাকেনা।

বাংলাদেশের জনতা শুধু মনে করে তিনবেলা খেতে পারা, বউ-বাচ্চা-বন্ধু-আত্নীয় স্বজন নিয়ে ভালোভাবে টিকে থাকাটাই জীবন। ফলে চিন্তার এত সামান্য চৌহদ্দীতে একজন ধুর্ত সামরিক শাসকের বলতে গেলে কোনো কষ্টই হয়না দেশ শাষন করবার জন্য।

আমরা যদি জিয়ার দিকে ফিরে যাই তাহলে প্রথমেই দেখতে পাব জিয়া এই দেশের শাষনভার নিজেই দখল করে নিয়েছিলো। এই দখল করে নেবার পেছনে জিয়ার আইনগত কোনো বৈধতাই ছিলোনা।

সাম্প্রতিক সময়ে ডক্টর জাফরুউল্লাহ একটা অদ্ভুত সাক্ষাৎকার দিয়েছেন একটি পত্রিকাকে। পত্রিকাটি আমার কম্পিউটারে সেইভ করে রাখা উচিৎ ছিলো কিন্তু করতে পারিনি। সেই ইন্টারভিউতে জাফর সাহেব জিয়ার এই ক্ষমতা দখল নিয়ে বলেছিলো, “সে সময় জিয়ার ক্ষমতা না নিয়ে উপায় ছিলোনা। দেশের অবস্থা এমন হয়েছিলো যেখানে ক্ষমতা তাকেই নিতে হোতো”

সাম্প্রতিক সময়ে একাত্তর টিভিতে বসে ডাঃ জাফরুল্লাহ বলে বসলেন, বঙ্গবন্ধুর খুনীদের যাতে ক্ষমা করে দেয়া হয়। শুনেই চমকে উঠেছিলাম। বলে কি এই লোক? জিয়ার অবৈধ শাষন হালাল করা আর খুনীদের ক্ষমা করার এই অদ্ভুত দ্বৈত সত্ত্বার এই যে অদ্ভুত মিশেল, এটিকে কি বলা যেতে পারে আমি জানিনা।

যাই হোক বলছি জিয়ার কথা।

এই লোকটি যখন ক্যান্টনমেন্টে প্রায় মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ছিলো তখন অনেকটা দেবদূতের মত তাকে বাঁচায় বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্ণেল আবু তাহের (বীর উত্তম)।

জিয়া যখন বেঁচে ফিরে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে নিলো, ঠিক তার পর পরেই জিয়া ঢাকা সেন্ট্রাল জেলে কোর্ট মার্শাল বসিয়ে রচনা করে বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বেদনা বিধুর নিষ্ঠুর ট্রাইবুনাল।

এই ট্রায়ালে মহান মুক্তিযোদ্ধা কর্ণেল তাহেরের ফাঁসী হয়। দীর্ঘ চার দশক পর কর্ণেল তাহেরের এই বিচার অবৈধ বলে ঘোষিত হয় এবং আদালত তাঁর রায়ে বলেন-

“The Petitioner no. 2 was never allowed, despite incessant requests, to meet her husband. Her written request to that effect was never responded to. It is only from the news paper reporting that she came to know of the purported conviction and the sentence that was passed on her husband”

(WRIT PETITION NO. 7236 OF 2010, ৭ম পৃষ্ঠা, তৃতীয় প্যারা)

মানে কর্ণেল তাহেরের ফাঁসীর আদেশ হবার পর তাঁর স্ত্রীকে পর্যন্ত শেষ দেখা দিতে দেয়া হয়নি। আজকে ডানপন্থী রাজনীতির সমর্থকেরা যখন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত নিয়ে নানাবিধ সমালোচনা করে মাঠ গরম করে ফেলে, তারা কি আদৌ এই রায় পড়ে দেখেছে? সেখানে আদেশের পর সেই আদেশের বিরুদ্ধে আপীলের ব্যবস্থা পর্যন্ত ছিলোনা।

আদালত বলেন-

The so-called regulation placed a total clog on appeal, stipulating, “No appeal shall lie to any authority from any decision or judgment of the tribunal”.

এই ক্যাঙ্গারু আদালত এমন-ই এক আদালত ছিলো যেখানে অভিযুক্তরা তাদের এই জীবনে কোনোদিন তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের কোনো কাগজপত্র-ই পান নি। আদালত এই বিষয়ে বলেন-

they were not supplied with any official document as to their release at any point of time, not even today. No document or certified copy on the trial, the charge, deposition, proceeding, judgment or any other matter quo the trial was ever given to the Petitioner No. 1, although he tried heaven and earth to procure the same

জিয়া এসব খুন খারাপী করে-ই কেবল বসে থাকেনি। ১৯৭৯ সালের এপ্রিল ৫ম সংশোধনীর মাধ্যমে পার্লামেন্টে ১৯৭৫ সালের ১৫-ই অগাস্ট থেকে শুরু করে ৯-ই এপ্রিল ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত যতরকমের অধ্যাদেশ, আদেশ, অন্যায় আর অবিচার ছিলো সব সংবিধানে ঢুকিয়ে হালাল করে নেয়।

আর ঠিক এই সময়ে ঘটে আরো একটি ভয়াবহ কাজ।

১৯৭৫ সালের ১৫-ই অগাস্টে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকান্ডের যাতে বিচার না হতে পারে সেটির পক্ষে যে অধ্যাদেষ (ইন্ডেমনিটি অধ্যাদেষ) খন্দকার মোশতাকের সময় জারি করা হয়েছিলো, জিয়া ৫ম সংশোধনীর মাধ্যমে তা সংবিধানে ঢুকিয়ে সেটিকে রাষ্ট্রীয় বৈধতা দিয়ে দিয়েছিলো।

শুধু ঠান্ডা মাথায় একবার চিন্তা করেন, আপনি যেই দলের লোক হোন না কেন। একটি ভয়াবহ খুনের বিচার যাতে না হয়, সেটি সংবিধানে ঢুকিয়ে (সংবিধানের ৪র্থ তফসিলের ১৮ নং অনুচ্ছেদ) একটি স্থানও বরাদ্দ করে ফেলেছিলো জিয়ার সরকার। অথচ এই সংবিধান ছিলো বাংলাদেশিদের মুক্তির সনদ, এটা ছিলো ন্যায় বিচারের সনদ।

চিন্তা করে দেখেন সংবিধানের প্রস্তাবনা অংশে লেখা রয়েছে ন্যায় বিচার ও সামাজিক সুবিচার নিশ্চিত করতে হবে অথচ এই সংবিধানের ৪র্থ তফসিলের ১৮ নাম্বার অনুচ্ছেদেই লেখা রয়েছে বঙ্গবন্ধুর খুনের ব্যাপারটি সমর্থন করা হোলো, এই নিয়ে কোনো আদালত,ট্রাইবুনাল বা কর্তৃপক্ষের নিকট কোনো কারনেই প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না।

মানে দাঁড়াচ্ছে ১৫-ই অগাস্ট ১৯৭৫ থেকে ৯-ই এপ্রিল ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত যতরকমের সরকারী অবিচার, নির্মমতা, নিষ্ঠুরতা হয়েছে সেগুলোর বিচার দূরের কথা, এটা নিয়ে প্রশ্ন-ই উত্থাপন করা যাবে না আর সেটি লেখা ছিলো আমাদের সংবিধানে!!

আজকে যখন এই জাতীয়তাবাদী দলের নেতা-কর্মী, চামচা, ফুট-সোলজার রা বড় গলায় গণতন্ত্র আর আইনের শাষন নিয়ে বক্তৃতা দেয়, তখন ইচ্ছে করে এদের কানের ভেতরে ইতিহাস ঢুকিয়ে দেই একটা একটা করে।

ইচ্ছে করে ওদের সিল হয়ে যাওয়া বুকের ভেতরে একটি স্রোত জাগাই। একটু ভাবনার স্রোত। যে ভাবনার স্রোত অন্তত তাদের যেন জানিয়ে দিয়ে যায় যে, তাদের নেতা ছিলো একটা আপাদমস্তক খুনী।

শুধু কর্ণেল তাহের-ই নয়। ১৯৭৭ সালের ২ অক্টোবর ঢাকায় সামরিক বাহিনীর একটি অংশ অভ্যুত্থান করেছে, এই অভিযোগে শত শত লোকের ফাঁসী হয়।

জায়েদুল আহসানের “রহস্যময় অভ্যুথান ও গণফাঁসি” বইতে এই অভুথ্যান ও ফাঁসি হওয়া ব্যাক্তিদের একটা তালিকা পাওয়া যায় যেখানে ২০৯ জন সামরিক বাহিনীর সদস্যদের নাম ঠিকানা ও ফাঁসির তারিখ দেখতে পাই।

লেখকের মতে, এই প্রাপ্ত ডকুমেন্টের বাইরে আরো বহুলোক কে সরাসরি হত্যা করা হয়েছে, গুম করে মেরে ফেলা হয়েছে যেগুলোর হদিশ আজও পাওয়া যায়নি। তাঁর প্রদত্ত নথির মাধ্যমে দেখা যায় যে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ১২১ জনের ফাঁসি হয় ২১ দিনে, কুমিল্লায় ফাঁসি হয় ৭২ জনের, বগুড়া কারাগারে ফাঁসি হয় ১৬ জনের।

এই হৃদয় বিদারক প্রহসনের বিচার আর সেসবের কিছু কাহিনী শুনলে ভেতরটা দুমড়ে মুচড়ে ওঠে। এই অবৈধ বিচারের একটি ঘটনা উল্লখ করি।এক ব্যাক্তি ছিলেন সার্জেন্ট কবির আহমেদ। ব্যাজ নাম্বার ৭৩৩০১।

২ শরা অক্টোবর স্কাই মিলিটারী ডিউটি শেষে করে সার্জেন্ট কবির বিমান বন্দরে আসেন। এসেই পরিস্থিতি বুঝতে পারে তিনি সিওডি তে যান অস্ত্র জমা দিতে। গিয়ে দেখেন অস্ত্রাগার লুট হয়ে গেছে। সে কারনে তিনি অস্ত্র জমা না দিয়ে নিজের কাছেই রেখে দেন। শুধু অস্ত্র নিজের কাছে রেখে দেয়ার সময় সার্জেন্ট কবিরের ফাঁসী হয় ২১ শে নভেম্বর ১৯৭৭ সালে।

এইসব হতভাগ্যদের বহু পরিবার দশকের পর দশক জানতে পারেন নি তাঁদের পিতা কোথায়, ভাই কোথায় বা বন্ধু কোথায়। তাঁদের কি আদৌ ফাঁসি হয়েছে নাকি বন্দী করে রাখা হয়েছে কোনো খবরই কেউ পান নি।

বছরের পর বছর তাঁদের স্বজনেরা অপেক্ষা করতে করতে কেউ কেউ মরে গেছে তীব্র কষ্ট নিয়ে। ঠিক তেমনই এক কষ্টের উপন্যাস আয়েশামঙ্গল। আনিসুল হক সাহেবের। আপনারা সুযোগ থাকলে এই উপন্যসটা পড়বেন এবং মোস্তফা সরয়ার ফারুকি এই নিয়ে একটা নাটকও বানিয়েছেন, আপনারা চাইলে দেখে নিতে পারেন।

এই হচ্ছে জিয়া। এই হচ্ছে জিয়ার উন্নয়ন। এই হচ্ছে জিয়ার আইন-আদালত। ক্ষমতা দখল করেই জিয়া প্রধান মন্ত্রী বানিয়ে ফেলে একাত্তরের কুখ্যাত রাজাকার শাহ আজিজকে। মন্ত্রী সভার সদস্য করে রাজাকার আব্দুল আলিম সহ আরো অনেককে।

জিয়ার সময়ের শাসন, বিচার, সংবিধান এসব দেখে নিজের ভেতর থেকেই একটা উপলব্ধি হয়। মনে হয় কি এক আক্রোশ তার বাংলাদেশের প্রতি। বাংলাদেশের মানুষের প্রতি।

শুধু তাকে আর্মির চীফ না বানিয়ে শফিউল্লাহকে বানাবার ক্রোধ থেকে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ড হবে যেনেও পেছনে পেছনে উৎসাহ দিয়ে গেছে ফারুক-রশিদ গং-কে। হত্যাকান্ডের পর দম্ভ করে এই সানগ্লাস জিয়া বলে উঠেছিলো, প্রেসিডেন্ট নেই তো কি হয়েছে?

জিয়াকে নিয়ে লিখতে গিয়ে এইটুকু বের হয়ে এলো। আরো কত কথা যে বলার আছে। কত কথা, কত উদাহরণ, কত তথ্য। এই স্বল্প পরিসরে দিতে পারলাম না বলে ক্ষমা করবেন।

একদিন হয়ত একটা বই লিখেই এসব আবার সামনে আনবো। আনতেই হবে। শেষ করবার আগে কর্ণেল তাহের কেইসের একটা অংশ উঠিয়ে দেবার লোভ সামলানো গেলো না।

আদালত তাঁর রায়ে বলেন-

The so-called trial continued for about 17 days, during which they did not know what were the charges that they were implicated with, because they were neither supplied any paper nor were the charges read over to them. They did not have the slightest idea as to the evidence that were to be adduced against them.

All the accused, including the petitioner no. 1, were used to be brought in the so-called court room in the Central Jail, handcuffed and barefooted and were all put inside a barbed cage as if they were roman slaves.

Neither them nor the lawyers appearing for different accused, were ever allowed to cross examine the prosecution witnesses; they were escorted by guards to the court and were hurriedly taken away after their hasty deposition.

The accused were not at all aware of the contents of the deposition. The accused persons were hardly given a chance to say anything in their defense or to repudiate the accusation brought against them or to contradict the deposition of the witnesses or to produce any defense witness.

আহ ন্যায় বিচার…আহা আদালত…আহা জিয়া…