BangladeshOpinion

বাংলাদেশে ইউনুস সরকারের দুর্নীতির ছায়া – একটি গভীর বিশ্লেষণ

এম ডি সামিউল আলম, যুক্তরাজ্য

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে দুর্নীতি সর্বদা একটি গুরুতর সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, সামাজিক ন্যায় এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ক্ষয় করেছে। ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অনেকে একটি নতুন সূচনা হিসেবে দেখেছিলেন। এই সরকারের প্রধান লক্ষ্য ছিল সংস্কার, স্বচ্ছতা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই। কিন্তু বাস্তবে, এই সরকারের অধীনে দুর্নীতির নতুন রূপগুলো উদ্ভাসিত হয়েছে, যা পূর্ববর্তী সরকারের অভিযোগগুলোকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এই ব্লগে আমরা ইউনুস সরকার এবং তার উপদেষ্টাদের দুর্নীতির বিভিন্ন দিক নিয়ে কঠোর সমালোচনা করব, যা দেশের ভবিষ্যতকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।

প্রথমেই বলা যাক, ইউনুসের নিজের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ কোনো নতুন বিষয় নয়। তাঁর নেতৃত্বাধীন গ্রামীণ টেলিকমের কর্মীদের কল্যাণ তহবিল থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ২০২৪ সালের আগস্টে তাঁকে খালাস দেওয়া হয়েছে, কিন্তু এই খালাসের পেছনে রাজনৈতিক প্রভাবের ছায়া দেখা যায়। সরকারী ক্ষমতায় আসার ঠিক পরেই এই মামলা থেকে মুক্তি পাওয়া কি সংযোগমাত্র? না কি এটি একটি সুকৌশলী ব্যবস্থা? এই ধরনের ঘটনা সরকারের স্বচ্ছতার দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

উপদেষ্টাদের কথায় আসি। ইউনুস সরকারের উপদেষ্টারা, যাদের মধ্যে অনেকেই ছাত্র আন্দোলনের নেতা, তাদের কর্মকাণ্ডে দুর্নীতির ছাপ স্পষ্ট। উদাহরণস্বরূপ, আসিফ মাহমুদ নামক এক উপদেষ্টা সরকারী প্রকল্পের বাজেট ১২০০ কোটি টাকা বাড়িয়ে দিয়েছেন, যা স্বজনপ্রীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের উদাহরণ। এই ধরনের কাজ পূর্ববর্তী সরকারের ‘আওয়ামী লীগ-স্টাইল’ দুর্নীতির সাথে মিলে যায়, যা ইউনুস সরকারের সংস্কারের দাবিকে হাস্যকর করে তোলে।

আরও গভীরে গেলে দেখা যায়, সরকারের অধীনে ব্যাংকিং সেক্টরে দুর্নীতি অব্যাহত। হোয়াইট পেপারে উল্লেখিত ১০টি ব্যাংকের দেউলিয়া অবস্থা এবং ১১৮ বিলিয়ন ডলারের প্রকল্পের খরচ বৃদ্ধি সরকারের দুর্বলতাকে প্রকাশ করে। কিন্তু নতুন সরকার এই সমস্যাগুলো সমাধানের পরিবর্তে নিজেরাই নতুন দুর্নীতির পথ তৈরি করছে। উদাহরণস্বরূপ, ছাত্র নেতাদের টেলিভিশন লাইসেন্স দেওয়া, যা মাহফুজ আলমের মন্ত্রণালয় থেকে হয়েছে, স্পষ্ট স্বজনপ্রীতি।

এই দুর্নীতি শুধু অর্থনৈতিক নয়, রাজনৈতিকও। সরকারের অধীনে বিমানবন্দরে লুটপাট, কর্মকর্তাদের হয়রানি অব্যাহত, যা দেশের ইমেজ নষ্ট করছে। ইউনুসের নিজের বিরুদ্ধে ১৭০টিরও বেশি মামলা, যা কর আত্মসাত এবং অর্থ পাচারের অভিযোগে, সরকারের নৈতিকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

সরকারের দুর্নীতির ফলে অর্থনীতি ধ্বংসের মুখে। বিদেশি বিনিয়োগ ১৫% কমেছে, দারিদ্র্য বাড়ছে। ভিয়েনা মডেলের সাথে তুলনা করলে বাংলাদেশের অবস্থা দুর্বল। সরকারের সংস্কার কমিটি, ড. ইফতেখারুজ্জামানের নেতৃত্বে, সাহসী সুপারিশ করেনি, যা হতাশাজনক।

এই সমালোচনা কঠোর কারণ দুর্নীতি দেশকে ধ্বংস করে। ইউনুস সরকারকে অবশ্যই স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা করতে হবে,