এন সি পির পদযাত্রায় সরকারি তহবিল থেকে ৮ কোটি টাকা বরাদ্দ!
বৈষম্যবিরোধী জোট থেকে উদ্ভুত রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (NCP) সাম্প্রতিক সময়ে দেশ জুড়ে তাদের নির্বাচনমুখী পদযাত্রায় সরকারি তহবিল থেকে ৮ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কোনো কোনো সূত্র বলছে এই অর্থের পরিমাণ ১২ কোটিও হতে পারে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয় নাগরিক পার্টি তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচীর অংশ হিসেবে এই পদযাত্রার আয়োজন করে এবং বিভিন্ন জেলাতে, থানাতে, উপজেরলাতে তাঁদের এই পদযাত্রা অব্যাহত রাখে। উল্লেখ্য গোপালগঞ্জের পদযাত্রাতে নাগরিক পার্টি নাম পরিবর্তন করে সেটিকে মার্চ টু গোপালগঞ্জ বলে অভিহত করে এবং তাদের কিছু সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধি গুড়িয়ে দেবারও প্রকাশ্য ঘোষনা দেয়। এমন পরিস্থিতে গোপালগঞ্জের সমাবেশে তাদেরকে সাধারণ জনতা ধাওয়া করলে নাগরিক পার্টির নেতারা সেনাবাহিনীর এপিসিতে করে নিরাপদে রাজধানীতে পৌঁছেন।

জাতীয় নাগরিক পার্টিকে বর্তমানে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নিজস্ব রাজনৈতিক দল বা কিংস পার্টি বলেও অভিহিত করা হয়। অভিযোগ রয়েছে সরকার নানাভাবে এই দলটিকে সাহাযু ও সহযোগিতা করে আসছে। এই দলের পদযাত্রার সময় পুলিশ, সেনাবাহিনী থেকে শুরু করে অতিরিক্ত আইন শৃংখলা বাহিনীর মাধ্যমে নিরাপত্তা প্রদান, পদযাত্রার বহরে অত্যাধুনিক গাড়ি, ভ্যান, মটর সাইকেল কিংবা সমাবেশের জন্য নির্ধারিত মঞ্চ ও আয়োজন দেখে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন এই অর্থ জাতীয় নাগরিম পার্টির নেতারা কিভাবে পেলেন যাদের দুইদিন আগেও টিউশনি করে জীবন চালাতে হতো। যদিও এন সি পি নেতা জনাব হাসনাত আবদুল্লাহ জনতার কাছ থেকে অর্থ নিয়ে জনতার রাজনীতি করছেন বলে সদাংবাদিকদের জানিয়েছেন কিন্তু এই জনতা তাদের কবে, কিভাবে, কোন পদ্ধতিতে টাকা দিলো সেটি তিনি পরিষ্কার করেন নি। জাতীয় নাগরিক পার্টির এখনো পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন না হলেও সরকারের বিভিন্ন সভা তথা জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশনের মিটিঙ্গে তাদের সরব উপস্থিতি দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলের কাছেও বেশ দৃষ্টিকটু লেগেছে বলে জানা গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাতীয় নাগরিক পার্টির একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য বলেন, ‘সরকারের সাহায্য না নিলে আমাদের নিরাপত্তা ব্যপকভাবে বিঘ্নিত হতে পারে এবং আমাদের প্রাননাশের সম্ভাবনা রয়ঞ্ছে। এমতবস্থায় সরকার যদি আমাদের কিছু অর্থ দেয় কিংবা নিরাপত্তা বিধান করে, এতে সমস্যার কি আছে? আমাদের মাধ্যমে গঠিত সরকাড় আমাডেড় ডেষেড় ফান্ড থেকে টাকা দেবে, এতে সমস্যা কোথায়? এই অর্থ জনগনের,আর আমরা জনতার পক্ষেই এই মহান অভ্যুত্থান করেই আজকের এই অবস্থায় এসেছি’
এই বিষয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের অন্যতম সিনিয়র নেতা মির্জা আব্বাসকে প্রশ্ন করা হলে তিনি এই ব্যাপারে কিছু জানেন না বলে জানান। তিনি ইঙ্গিত করে বলেন, এই নাবালকরা কিভাবে এই পদযাত্রা করে তা বুঝার জন্য কি রকেট সায়েন্টিস হওয়া লাগে?

