Uncategorized

সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (FDI) নিয়ে ইউনুসের গ্লোবাল মিথ্যাচার

মোহাম্মদ জাহিন, যুক্তরাজ্য থেকে

ইউনুসের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে গত ১ বছরে বাংলাদেশে FDI এর প্রবৃদ্ধি ১৯.১৩% বাড়ছে দেখে খুশিতে গদগদ হয়ে পোষ্টে উল্লিখিত শ্রীলঙ্কা (২০২২), চিলি(২০১৯), সুদান (২০১৯), ইউক্রেন(২০১৪), মিশর (২০১১) ও ইন্দোনেশিয়া (১৯৯৮) সালের FDI প্রবৃদ্ধির তথ্য দেখার জন্য Chatgpt ও Google এর সার্চ দিলাম। উভয় ক্ষেত্রেই Index Mundi সহ অনেক জায়গা থেকে তথ্য দিল। Index Mundi হল এমন একটি প্রতিষ্ঠান যারা ১৯৭০ সাল থেকে IMF ও বিশ্বব্যাংকের সাথে কোলাবোরেট করে বৈশ্বিক জিডিপি, এফডিআই ও আমদানি-রপ্তানি বানিজ্য নিয়ে তথ্য দেয়-

তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ীঃ

১। শ্রীলঙ্কা ২০২২ সালে ৪৯.৩% FDI প্রবৃদ্ধি করেছে।

২। চিলি ২০১৯ সালে ৬২.৯% FDI প্রবৃদ্ধি করেছে।

৩। সুদানে ২০১৯ সালে ২৭.৩% FDI কমেছে।

৪। ইউক্রেনে ২০১৪ সালে FDI ৮১.২% কমেছে।

৫। মিশরে ২০১১ সালে ১০৭% FDI কমেছে।

৬। ইন্দোনেশিয়াতে ১৯৯৮ সালে ১৫১% FDI কমেছে।

ভন্ড ও মিথ্যাবাদী ইউনুস এই ক্ষেত্রেও মহা বাটপারি করেছে। সে তার পোষ্টে এই দেশগুলোতে সংগঠিত আন্দোলনে বছরের FDI তথ্য দিয়েছে। অথচ বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ২০২৪ সালের তথ্য না দিয়ে চালাকি করে ২০২৫ সালের ৩য় কোয়ার্টারের তথ্য দিয়ে চালিয়ে দিয়েছে। অথচ ২০২৫ এর ২য় কোয়ার্টার (এপ্রিল-জুন) ৬১% FDI কমার তথ্য সচেতন ভাবে ভুলে গেছে। আর ৩য় কোয়ার্টার (জুলাই-সেপ্টেম্বর) এর ১৯% প্রবৃদ্ধি হলেও তার ৭২% হচ্ছে Re-investment, অর্থাৎ এই টাকা বিদেশ থেকে আসে নাই বরং পূর্বের করা বিনিয়োগই পুনরায় বিনিয়োগ করা হয়েছে।

এখানে কয়েকটা বিষয় উল্লেখযোগ্য।

প্রথমত, সুদানের উদাহরণ কি বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য? দেশটিতে ২০১৯ সালে সরকার পতনের পর আজ অব্দি গৃহযুদ্ধ চলছে। গৃহযুদ্ধের দেশে কে বিনিয়োগ করবে? বাংলাদেশে কি সুদানের মত গৃহযুদ্ধ চলছে?

দ্বিতীয়ত, ইউক্রেনে ২০১৪ সালের সরকার বিরোধী আন্দোলনের আগ পর্যন্ত সেদেশের মোট বৈদেশিক বিনিয়োগের ৬৬% ছিল রাশিয়ার। স্বভাবতই রাশিয়াপন্থি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইয়াঙ্কুভিচ এর পতনের পর ইউক্রেনে রাশিয়ান বিনিয়োগের পরিমাণ ০% এর নেমে আসে। ফলে ঐ বছর ইউক্রেনের FDI কমে যায়। বাংলাদেশে কি ইউক্রেনের মত কোনো দেশ বিনিয়োগ বন্ধ করেছে?

তৃতীয়ত, ২০১১ সালে মিশরের হোসনি মোবারকের পতনের পর তার মিত্র আরব রাষ্ট্র সৌদি আরব, কাতার, আরব আমিরাত, কুয়েতের মত দেশগুলো বিনিয়োগ বন্ধ করে দেয়। এছাড়া পশ্চিমা অপছন্দের মুসলিম ব্রাদারহুডের মুহাম্মদ মুরসি সরকার গঠন করলে পশ্চিমারাও মিশরে একপ্রকার অলিখিত বিনিয়োগ করা বন্ধ করে। তাই মিশরের পরিস্থিতির সাথে বাংলাদেশের অবস্থার তুলনা করা ভন্ডামি।

চতুর্থত, ইন্দোনেশিয়াতে মেটিকুলাস ডিজাইনে জাকার্তা মেথডের মাধ্যমে আমেরিকার মিত্র প্রেসিডেন্ট সুহার্তো বিরোধী আন্দোলন ও তার পতনে পর সেদেশে আমেরিকাসহ পশ্চিমারা বিনিয়োগ করা বন্ধ করে দেয়। এছাড়া এসময় তৎকালীন সময়ে চলমান “এশিয়ান মহামন্দা”র কারনে প্রায় সকল দেশের অর্থনীতি ধুঁকছিল। ফলে পশ্চিমা বিনিয়োগ কমা বা বন্ধ হওয়া পরিস্থিতির দাবি ছিল। আর পশ্চিমাপন্থি জেনারেল সুহার্তোর পতনের পরবর্তী সুকর্নপুত্রী সরকার কিন্তু পূর্ব-তিমুর কে স্বাধীনতা দিতে বাধ্য হয়। তৎকালীন ইন্দোনেশিয়ার পরিস্থিতি কি বাংলাদেশে চলমান?

সুতরাং সম্পূর্ণ অপতথ্য ও মিথ্যা তথ্যের মাধ্যমে জনগনকে আর বিভ্রান্ত করছে এরা। বিগত কয়েক মাসে সারাদেশের পত্র পত্রিকার নিউজ গুলো কি মিথ্যা?

এরা স্বীকার করে না এই চোর ইউনুস ও তার ঘেটুপুত্র আশিক চৌধুরীদের মুরোদ নেই বিদেশী বিনিয়োগ আনার। আর এরা এমন কিছু করে নাই যে বিদেশীরা বিনিয়োগ করবে। বরং এদের অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা, দূর্নীতি, লুটপাট ও সন্ত্রাসের কারণে এদেশ থেকে বিদেশী বিনিয়োগকারীসহ দেশীয় বিনিয়োগকারীরাও মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। এদেশ থেকে তৈরি পোশাকের ক্রয়াদেশ অন্য দেশে চলে যাচ্ছে। ১ বছরে ২৫৮ টি পোশাক কারখানাসহ হাজারখানেক শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে, লক্ষ লক্ষ শ্রমিক কাজ কর্মহীন হয়েছে। আর এই প্রতারকরা মিথ্যা তথ্য দিয়ে জনগনকে ধোকা দিতে চাচ্ছে। আর কত বাটপারি আর ভন্ডামি করবে সুদখোর ইউনুস?