ইউনুসের রক্তাক্ত রাজত্ব: বাংলাদেশে অবিরাম খুনের নির্মম নাটক
মোহাম্মদ জাহিন, যুক্তরাজ্য থেকে
ও মুহম্মদ ইউনুস, তুমি যাকে নোবেল শান্তির পুরস্কার পেয়ে ‘ব্যাঙ্কার অফ দ্য পুওর’ বলে বিশ্বে ঘুরে বেড়াও, তোমার এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে বাংলাদেশ হয়েছে একটা খোলা জেনোসাইডের ময়দান! ২০২৪-এর আগস্ট থেকে ২০২৫-এর নভেম্বর পর্যন্ত, হাজার হাজার যুবকের রক্তে রাঙানো রাস্তা, মুক্তিযোদ্ধাদের উপর নির্মম হামলা, সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে আগুন—এসব তোমার ‘সংস্কার’-এর ফল? তুমি যখন ঢাকার রিপোর্টার্স ইউনিটিতে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী ও শেখ হাফিজুর রহমানের উপর তোমার গুন্ডাদের হামলা করিয়ে দাও, তখন কি তোমার মনে হয় না যে ১৯৭১-এর তিন মিলিয়ন শহীদের রক্ত তোমার পায়ে লেগে আছে?
আসুন, একটা একটা করে ঘটনা খুলে দেখি। ২০২৪-এর ৫ আগস্ট, শেখ হাসিনার পতনের পরদিনই ঢাকার রাস্তায় শুরু হয় খুনের মহোৎসব। বিএনপি-জামায়াতের ছাত্রদলের গুন্ডারা আওয়ামী লীগের কর্মীদের ঘরে ঘরে গিয়ে কোপায়, গুলি করে। শুধু ঢাকায় প্রথম সপ্তাহে ১৮৭ জন খুন। পুলিশ? তারা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তামাশা দেখে। কারণ তোমার সরকারের নির্দেশ: “অপরাধীদের ধরবেন না, শুধু ভিকটিমদের গ্রেপ্তার করুন।”
১৫ আগস্ট, জাতীয় শোক দিবসে, চট্টগ্রামে ১৪ জন আওয়ামী লীগ নেতাকে ট্রাক থেকে নামিয়ে কুপিয়ে হত্যা। লাশগুলো রাস্তায় ফেলে রাখা হয় তিন দিন। কেন? কারণ তারা বঙ্গবন্ধুর ছবি বুকে নিয়ে শোকসভা করতে গিয়েছিল। তোমার পুলিশ সেই লাশের পাশে দাঁড়িয়ে সেলফি তুলেছে।
২০ সেপ্টেম্বর, রংপুরে ৭ জন মুক্তিযোদ্ধাকে বাড়ি থেকে টেনে বের করে গুলি। তাদের অপরাধ? তারা ১৯৭১-এ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লড়েছিল। আর তোমার সরকারের মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, “এটা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নয়, ব্যক্তিগত।” ব্যক্তিগত? যখন রাজাকারের ছেলেরা মুক্তিযোদ্ধাদের খুন করে, আর তুমি চুপ, তখন এটা রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস!
অক্টোবরে খুলনায় ৩২ জন যুবককে গুলি করে হত্যা। কারণ? তারা কোটা সংস্কারের প্রতিবাদে মিছিল করছিল। তোমার সরকার বলে, “তারা সন্ত্রাসী।” কিন্তু তাদের হাতে ছিল শুধু ব্যানার আর জাতীয় পতাকা। পুলিশের গুলিতে ১২ জনের মাথা ফেটে যায়। লাশগুলো হাসপাতালে নেওয়ার আগেই পুলিশ জোর করে দাফন করে দেয়।
নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ঢাকায় ৪১ জন খুন। এর মধ্যে ৯ জন সাংবাদিক। কেন? কারণ তারা খুনের ছবি তুলছিল। তোমার গুন্ডারা তাদের ক্যামেরা ভেঙে, মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে গলা কেটে ফেলে। একজন সাংবাদিকের লাশ পাওয়া যায় যমুনার পাড়ে, হাত-পা বাঁধা।
এই খুনের চক্রান্তে তোমার পুলিশ ভিকটিমদেরই গ্রেপ্তার করে, অপরাধীদের ছাড়িয়ে দেয়। রাজাকারের ছেলেরা মুক্তিযোদ্ধাদের উপর হামলা চালিয়ে যায়, আর তুমি চুপচাপ বসে থাকো, কারণ তোমার পিছনে জামায়াতের ছায়া! বাংলাদেশের যুবকরা তোমার ‘অবাধ’ আন্দোলনের নামে খুন হচ্ছে, মেয়েরা ধর্ষিত হয়ে আত্মহত্যা করছে, আর তুমি বিশ্বব্যাঙ্কের চেয়ারম্যানের মতো বক্তৃতা দিয়ে সময় কাটাও।
আমি বলছি, এই রক্তপাত বন্ধ করার জন্য তোমাকে পদত্যাগ করতে হবে। না হলে ইতিহাস তোমাকে ‘বাংলাদেশের বুচার’ বলে চিহ্নিত করবে। তুমি যদি ভাবো বিদেশি শক্তি তোমাকে বাঁচাবে, তাহলে ভুল। জনগণের রক্তের দাগ কোনো নোবেল মুছে ফেলতে পারে না।

