ইউনুসের দেশ ধ্বংসের পরিকল্পনা
মোহাম্মদ জাহিন, যুক্তরাজ্য থেকে
যে কথা বলেছি গত বছরের জুলাইতে। এই সন্ত্রাসের ফলাফল, ধ্বংস হবে দেশ। হেরে যাবে আমাদের মাতৃভূমি। ১৫ মাস অতিক্রম হবার পরে, সেটা এখন প্রমাণিত।
প্রতিদিন এখন লাশ পাওয়া যায় দেশের বিভিন্ন স্থানে। নারীদের জন্য একেবারেই অনিরাপদ হয়ে পড়েছে দেশটা। ধর্ষণ, হেনস্তার পাশাপাশি ফিরে এসেছে এসিড সন্ত্রাস। দেশের প্রধান বিমানবন্দরে আগুন, শত শত শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে বেকার হয়েছে কোটি কোটি মানুষ। এক সময়ের এশিয়ান রাইজিং টাইগার এখন দূর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে।
ক্ষমতা নেয়ার আগেই প্রতিবেশী দেশকে তাদের সাত রাজ্য নিয়ে হুমকি দেয়া। আমাদের দেশকে নিয়ে এমন হুমকি দিলে আমরা সেটা কীভাবে নিতাম? তার উপর বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দেশ আমাদের প্রতিবেশী। মুক্তিযুদ্ধের সময়ের সবটুকু দিয়ে সহায়তা করা দেশটির প্রতি কৃতজ্ঞতা রেখেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশে ফেরার আগেই ভারতে যাত্রা বিরতির সময়েই ভারতের সেনাবাহিনী প্রত্যাহারের অনুরোধ করে এসেছিলেন।
সদ্য স্বাধীন একটি দেশ, যেই দেশকে তখনও স্বীকৃতি দেয়নি কোন দেশ সেই দেশ থেকে ভারত সেনাবাহিনী প্রত্যাহার না করে কি বাংলাদেশ দখল করার কোন অভিপ্রায় ছিল? থাকলে করেনি কেন? এই যে এতো এতো প্রোপ্যাগান্ডা ছড়ানো হয়, যে ভারত নাকি মুক্তিযুদ্ধের পরে বাংলাদেশ থেকে অনেক সম্পদ লুটপাট করেছে এটা একটা বিরাট কৌতুক। এর পেছনে ভারতকে দোষী দেখানো পাশাপাশি পাকিস্তানি সেনাবাহিনী এই দেশকে যে পরিমাণ ধ্বংস করেছে সেটা লুকানোর একটা কৌশল। ১৯৭১ সালের নয় মাসে দেশটাকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার, আলবদর, আলশামস সহ সহযোগী বাহিনীগুলো। সেই ধ্বংস স্তূপ থেকে নাকি ভারতের সেনাবাহিনী লুট করেছে। মানে এসব গাঁজাখুরি গল্প বিশ্বাস করার জন্য একটা শ্রেণী বসেও থাকে। রক্ত বলে কথা। নিজেদের বাপেরা এসব বিশ্বাস করিয়েছে, তারা বিশ্বাস করে।
ভারত ইতিমধ্যে “চিকেন নেক” খ্যাত ২২ কিলোমিটারের যেই এলাকা দিয়ে তাদের সাত রাজ্যের সাথে মূল ভূখণ্ডের সংযোগ সেটা নিরাপদ করার জন্য তিনটি ক্যান্টনমেন্ট স্থাপন করেছে। গত ৫৪ বছরে এর প্রয়োজন পড়েনি। এখন কেন প্রয়োজন পড়েছে?
যদিও আমি শেখ হাসিনার রাজনীতির বিরোধী কিন্তু যা সঠিক তাকে সঠিক বলতেই হবে। জামাতী রাজাকারের বংশধরেরা শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যের খন্ডিতাংশ খুব প্রচার করে। তা হলো, “ভারতকে যা দিয়েছে, তারা আজীবন মনে রাখবে…।” এই বদমাইশগুলো এই বক্তব্যের বাকী অংশটুকু বলে না। শেখ হাসিনা ভারতকে নিরাপত্তা দিয়েছিলেন। বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ভারতের অভ্যন্তরে কোন সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালানোর যাবে না এমন নিশ্চয়তা দিয়েছিলেন। যে কোন সভ্য প্রতিবেশী মাত্রই এমনটা করবে। এবং সেটা কোন নতি স্বীকার করা নয়। ভারত ও মিয়ানমারের সাথে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা জিতে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা জয় করেছিলেন। ছিট মহল সমস্যার সমাধান করেছিলেন। বাংলাদেশের আয়তন বৃদ্ধি পেয়েছিল। কিন্তু, মিথ্যাবাদীদের ব্যাপক প্রোপ্যাগান্ডার কারণে শুনে এসেছি ভারতের কাছে নাকি দেশ বিক্রি করে দিয়েছে। উল্টো আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরে জানা গেলো, বাংলাদেশ নানাভাবে ভারতের কাছে সুবিধা পেয়ে আসছিল। ভারতের বিমানবন্দরগুলো ব্যবহার করে বাংলাদেশ পণ্য রপ্তানি করতে পারতো, যা ভারত বন্ধ করে দিয়েছে। মহাজন তা নিয়ে কোন আওয়াজও করতে পারেনি। শুনে এসেছি ভারতে নাকি গ্যাস পাচার হতো। অথচ, জানা গেলো এমন কোন কিছুর অস্তিত্বই ছিল না। শুনে এসেছি, ভারতের সাথে এতো এতো গোলামীর চুক্তির কথা যা এই ইউনুস এসেও দেখাতে পারলো না।
জাতিকে প্রতিনিয়ত জ্ঞান বিতরণ করা আসিফ নজরুলের মাধ্যমে জানতে পেরেছিলাম বাংলাদেশে নাকি ২৬ লক্ষ ভারতীয় অবৈধভাবে কাজ করে। অথচ, একজন ভারতীয়কে ফেরত পাঠাতে দেখলাম না। শুনেছি, সকল মেগা প্রকল্পের ব্যয় অনেক বেশী ছিল দুর্নীতির কারণে। অথচ, চলমান প্রকল্পগুলোর ব্যয় এই ইউনুস সরকারের আমলে কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইউনুস চীনে গিয়ে ভারতের সাত রাজ্য নিয়ে কূটনৈতিক শিষ্টাচার ভেঙ্গে বক্তব্য দিয়েছে। খুব স্বাভাবিকভাবে ভারত তা ভালোভাবে নিবে না। এরপর আবার বলে আসে, সে নাকি সমুদ্র কর্তা। কথায় কথায়, হুমকি দেয় ভারত নিয়ে। পুরো দেশে ভারত বিরোধী মনোভাব উস্কে দিচ্ছে।
স্থান, কালভেদে পুরো প্যাটার্ণটা মিলে যায় ইউক্রেনকে রাশিয়ার বিরুদ্ধ উস্কানি দিয়ে যুদ্ধে জড়ানোর ঘটনাপ্রবাহের সাথে। সেই অরাজনৈতিক জেলেন্সকিকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় বসানো, মায়দান বিপ্লব, সরকার পতন সবটুকুই। ইউক্রেন এখনো টিকে আছে ইউরোপের অন্য সব দেশের কারণে। তবুও হারাতে হয়েছে ভূখন্ডের অনেক অংশ। কিন্তু, বাংলাদেশের সীমান্তের দুই প্রতিবেশী ভারত ও মিয়ানমার। প্রতিবেশী দেশের সাথে সুসম্পর্ক রাখতে হয়। কোন রকম বিরোধ হলে, তা কূটনীতির মাধ্যমে সমাধান করতে হয়। হুমকি ধমকি দেয়া মানেই প্রতিবেশীকে যুদ্ধের আহবান জানানো।
জুলাই যোদ্ধারা এখন কোথায়? সকল জোশ কোথায় হারিয়ে গেছে? মহাজন যেহেতু দেশটাকে যুদ্ধক্ষেত্র বানানোর সকল আয়োজন সমাপ্ত করেছে, জুলাই যোদ্ধারা নিশ্চয়ই সেই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করবে! জাতীয় পতাকা মাথায় বেঁধে রাস্তায় নামা দেশের ও বিদেশের কোমলমতিরা নিশ্চয়ই মহাজনের পেছনে দাঁড়াবে।
কিন্তু, মহাজন কি তাদের কথা ভাবে? একজন আপাদমস্তক স্বার্থপর বদমাইশ দেশের জন্য ভালো কিছু করতে এসেছে, এমন ভাবা আশপাশের বলদ ও রাজাকারের সন্তানগুলোকে ইতিহাস যেমন প্রাপ্য বুঝিয়ে দিবে, তেমনি এই জাতি আজীবন ঘৃণা করবে এই একটা প্রজন্মের বদমাইশগুলোকে।

