BangladeshNewsOpinionPolitics

আসল ফেইশিজমের খপ্পরে

মোহাম্মদ মোশাররফ হোসাইন, যুক্তরাজ্য

ফ্যাসিস্ট কাকে বলে? ফ্যাসিজম? আমরা যেভাবে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে সংজ্ঞা পাঠ করতাম সেরকম একটা সংজ্ঞা নিয়ে আপনি আলোচনাটা শুরু করতে পারেন। আরেকটা পথ আছে, সহজ- হিটলারের উদাহরণ নেন, আর তার সাথে জার্মানিতে গত শতকের তিরিশের দশকে যেসব ঘটনা ঘটেছে সেগুলি। তাইলে আপনি একটা স্পষ্ট ধারণা পাবেন- কতোগুলি মার্কার দেখতে পাবেন যেগুলিকে আপনি আপনার নিজের রাষ্ট্র ও সমাজের প্রেক্ষাপটে খুঁজে দেখবেন। তাইলে আপনি সহজেই চট করে দেখতে পাবেন ফ্যাসিজমের উপস্থিতি বা আগমনের।

হিটলারের পার্টি জার্মানির ক্ষমতা গ্রহণের পর কমিউনিস্ট, সমাজতন্ত্রী ও ইহুদীদের উপর অত্যাচার শুরু করে। উদ্দেশ্যটা ছিল হিটলারের রাজনৈতিক মতবাদের সাথে যারা একমত পোষণ করবে না ওদের অস্তিত্ব রাখবে না। নীতিটা ছিল, হিটলারের নীতিই জার্মানির জন্যে উত্তম, এই নীতি যারা মানবে না বা যারা এই নীতির বিরোধ করবে ওরা জার্মানির শত্রু, ওদের কোন অধিকার নাই জার্মানিতে স্বাভাবিক জীবন যাপন করা। লক্ষ্য করবেন, দুইটা গ্রুপকে হিটলার চিহ্নিত করেছিল- একটা গ্রুপ হতো রাজনৈতিক মতামতের ভিত্তিতে, আরেকটা গ্রুপ ছিল ধর্ম বিশ্বাসের ভিত্তিতে। এই বিভাজনের সাংস্কৃতিক অনুষঙ্গও ছিল।

এখন একই কায়দা দেখবেন কিছু লোক বাংলাদেশে প্রয়োগ করতে চাচ্ছে। রাজনৈতিক নীতির ভিত্তিতে ওরা যে গ্রুপটা চিহ্নিত করেছে সেঁতা হচ্ছে আওয়ামী লীগ ও আওয়ামী লীগের সাথে নীতিতে মিলে এইরকম রাজনৈতিক মোট ও দলের অনুসারীরা। আর ধর্মীয় বিশ্বাসের দিক দিয়ে ওরা চিহ্নিত করেছে হিন্দুদের। জার্মানিতে একটা ব্যাপার ছিল, কমিউনিস্ট ও সমাজতান্ত্রিক মতাবলম্বী বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে একটা উল্লেখযোগ্য অংশ ছিল ইহুদী। আমাদের এখানে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের একটা বড় অংশ আওয়ামী লীগের অনুসারী। আর এই দুই গ্রুপের সাথে ওরা মিলিয়ে দিয়েছে সকল ধর্মনিরপেক্ষ বুদ্ধিজীবী, সংস্ক্রিতিকর্মী এদেরকে।

বাকিটা আমি আর ব্যাখ্যা করবো না। আপনি নিজেই একটু খুঁজে বুঝে দেখুন, আপনার রাষ্ট্রে, আপনার সমাজে কোথাও কি এইসব মার্কার দেখতে পান? হিন্দু বলে চাকুরী থেকে বের করে দেওয়া, মারধোর করা বা নানাভাবে হয়রানী করা? আওয়ামী লীগের সাথে নীতি আদর্শ কিছু মিলে যায় এরকম বুদ্ধিজীবীদের কি হয়রানী করা হয়? সাংবাদিকদের? বিশ্ববিদ্যালয়ের বা স্কুল কলেজের টিচারদের?

আমরা কি ফ্যাসিবাদের খপ্পরে পরতে যাচ্ছি? আপনি আপনার মতো করে পরীক্ষা করে দেখুন। নিজেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুন। আমাকে জানানোর দরকার নাই। চাইলে হিটলারের অধীনে জার্মানিতে বা মুসোলিনির অধীনে ইতালিতে কি ধরণের নির্যাতন অত্যাচার এইসব হয়েছে সেগুলি একটু পড়ে নিতে পারেন- কতো অধ্যাপকে পেটানো হয়েছে, তাড়ানো হয়েছে, হত্যা করা হয়েছে ইত্যাদি। এখন তো তথ্য সংগ্রহ এবং পাঠ ইত্যাদি অনেক সহজ হয়ে গেছে, কেবল কয়েকটা ক্লিকেই অনেক তথ্য বই পত্র ইত্যাদি মিলে যায়।